Welcome To My Official Blog Site

নতুন নতুন সব আপডেট পেতে আমাদের সাইটের সাথেই থাকুন। আর কোন সমস্যা হলে আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করবেন www.facebook.com/ShaharukhOfficial

Wednesday, December 11, 2019

শীতের বার্তা

শীতের বার্তা
- মোঃ শাহারুখ হোসেন

চারিদিকে মৃদু হাওয়া শীতল বাতাস
এ যেন শীতের-ই আগমনী আভাস
ভোর বেলা দেখা যায় হালকা কুয়াশা
কাছের সবকিছু যেন লাগে ধোঁয়াশা

উলঙ্গ গাছের সারি জানান দিয়ে যায়
খেজুর গাছে রসের ঠিলে দেখতে পায়
মাঠে মাঠে দেখা যায় হলুদ শস্য ফুল
অপরূপ এই দৃশ্য দেখে মন হয় ব্যাকুল

দিনের অংশ ছোট হয়ে রাত হয় বড়
পশুপাখি মানুষও ঠাণ্ডায় হয় জড়
অতিথি পাখিরা আসছে ডানা মেলে
কতো সাগর পাহাড়-পর্বত দূরে ফেলে

শীতের এ আয়োজনে দুচোখ যায় ভরে
ভাপা পিঠার সুগন্ধে মন আনচান করে
কতো কিছু প্রকৃতিকে শীত যায় দিয়ে
এভাবে শীত আসে শীতের বার্তা নিয়ে

Saturday, November 16, 2019

পেঁয়াজ ইস্যু

পেঁয়াজ ইস্যু
- মোঃ শাহারুখ হোসেন

পেঁয়াজ নিয়ে কেন বলো
এতো মাতামাতি?
পেঁয়াজ যেন হয়ে গেছে
লাখ টাকার হাতি।

পেঁয়াজ ছাড়া চলবে না আর
কোনো রান্নাবান্না
পেঁয়াজ না পেলে বউ এবার
জুড়বে বসে কান্না

বাড়িতে আর হাট বাজারে
টপিক হলো পেঁয়াজ
এতো দাম! কিনবো কী করে?
শুরু হলো কাওয়াজ

ভারত আর পেঁয়াজ রপ্তানি
করবে না এ দেশে
বাংলাদেশের মানুষ এখন
আছে বেহাল বেশে

সবার মাঝে চিন্তা একটাই
পেঁয়াজ পাবো কোথায়?
এতো দামে কিনতে গেলে
টাকা ফুরিয়ে যায়।

এতো শত ভেবে মোদের
কোনো লাভ নাই
এর থেকে বেরিয়ে আসার
উপায় যে একটাই

আমাদের দেশের উৎপাদন
বাড়াতে হবে আরো
চাষীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার
চিন্তা কী আছে কারো?

মধ্যস্বত্বদের দৌরাত্ম
হ্রাস করা যে চাই
তা না হলে পেঁয়াজের দাম
কমার উপায় নাই

ভারতের উপর নির্ভরশীল
আর হওয়া লাগবে না
ঘাটতির চাহিদা মিটলে আর
ভয় মনে জাগবে না

ধরতে হবে ধৈর্য ধারণ
করতে হবে আইন
অতিরিক্ত দামে বিক্রয়
করলে হবে ফাইন

তবেই কমবে পেঁয়াজের দাম
মিলবে সবার মুক্তি
পেঁয়াজ ইস্যু নিয়ে এতো
দিতে হবে না যুক্তি

Monday, November 4, 2019

মোঃ শাহারুখ হোসেন'র অণুছড়া ০২

শত কষ্ট বুকের মাঝে
করে দিয়েছি দাফন
মনের শরীরে পড়েছি
ধূসর কালো কাফন
            - মোঃ শাহারুখ হোসেন

Wednesday, October 30, 2019

ক্রাশ বনাম ভালোবাসা - মোঃ শাহারুখ হোসেন


ক্রাশ বনাম ভালোবাসা
- মোঃ শাহারুখ হোসেন
-------------------------------

আধুনিক যুগের ছেলে-মেয়েরা এখন যেকোনো সময় ক্রাশ খাচ্ছে। রাস্তাঘাট, স্কুলকলেজ কিংবা যেকোনো স্থানে হঠাৎ করেই ক্রাশ খায়। আসলে ক্রাশ কী? বা ক্রাশই কী প্রকৃত ভালোবাসা?? নাকি অন্য কিছু?? এসব বিষয় নিয়েই আসলে আজকে লিখতে বসেছি।

সর্বপ্রথম ক্রাশ সম্পর্কে প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার। ইংরেজি Crush শব্দটি যদি Dictionary-তে সার্চ করেন তাহলে বেশকিছু অর্থ দেখবেন। যেমনঃ ভাঙ্গা, প্রবল চাপ, সর্বনাশগ্রস্ত হওয়া, পিষা ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে অবশ্য কেউ কাউকে দেখে ভালো লাগলেই প্রতীকী অর্থে 'ক্রাশ' খেয়েছি এমটা বলে থাকেন। ভালো লাগার কথা জানান দেয়ার/প্রকাশের বিকল্প শব্দ হিসেবে ক্রাশ শব্দটা এখন বহুল প্রচলিত।
কাউকে প্রথম দেখার পর থেকে তার প্রতি অদ্ভুত একধরণের আকর্ষণবোধ করাকেই ক্রাশ বলে। এই সময়টাতে একধরণের বিশেষ ভালো লাগা কাজ করে। সব কিছুই ভালো লাগতে শুরু করে। যার ওপর এই ক্রাশ তাকে নিয়েই ভাবতে ভালো লাগে। এই সময়ে ক্রাশ খাওয়া ব্যক্তি অনেক অদ্ভুত কিছু কান্ড করতে থাকেন যেটা হয়তো বন্ধুবান্ধব এর নজরে পড়ে। কিন্তু মনের অজান্তেই সবাই এই কাজগুলো করেন। কারণ তিনি তখন আসলেই অন্য এক জগতে বসবাস করতে থাকেন। ব্যাপক অর্থে কারো প্রতি সেই রকমের আকর্ষণ, টান অনুভব করাই হলো ক্রাশ।

অন্যদিকে ভালোবাসা হচ্ছে সেই সম্পর্ক যাকে সংঙ্গায়িত করা সম্ভব নয়। ভালোবাসা হচ্ছে বিশেষ কারো জন্য মনের এক নিঃস্বার্থ সুন্দর অনুভূতি, কোনো চোখের নেশা নয়, যা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ হতে উপহার স্বরুপ এবং যার কখনো পরিবর্তন হয়না তাকে ভালোবাসা বলা যায়।
আসলে ভালোবাসা বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। মা-বাবার ভালোবাসা, ভাই-বোনের ভালোবাসা, আত্বীয়-স্বজনের ভালোবাসা, বন্ধুবান্ধবের ভালোবাসা, প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা ইত্যাদি। প্রতিটা ভালোবাসার সম্পর্ক আলাদা হয়ে থাকে। এগুলো আসলে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে যে ভালোবাসাটা কেমন হবে।

তো এখন আমার কাছে যেটা মনে হয়, ক্রাশ আসলে প্রকৃত ভালোবাসা হতে পারে না। কারন বর্তমান সময়ে আমরা যে কথায় কথায় একজন আরেকজনকে দেখে ক্রাশিত হচ্ছি এটা শুধু চোখের ভালো লাগা। কারন আপনি যখন তাকে দেখেই বলছেন, কী সুন্দর!, OMG! বা My Crush! ইত্যাদি বলছেন তাহলে সেটা আপনার তার চেহারা দেখেই হয়েছে। প্রকৃত ভালোবাসা কখনো চেহারা বা সৌন্দর্য দেখে হয় না। ভালোবাসা হয় মন থেকে, মনের অজান্তেই হয়ে যায়। দুজন দুজনকে চিনতে জানতে অনেকটা সময় লাগে।

একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বিষয়টা আপনাদের কাছে আরো বেশি স্পষ্ট হবে। মনে করুন, আপনি যাকে দেখে ক্রাশ খেয়েছেন সে একদিন হঠাৎ করে কোন দুর্ঘটনায় পড়ল এবং তার একটি পা কেটে ফেলতে হলো অথবা যেকোনো কারনে তার মুখের কিছু অংশ পুড়ে চেহারা নষ্ট হয়ে গেলো। তখন কি সে আপনার আর ক্রাশ থাকবে?? থাকবে না কারন আপনি তার চেহারার উপর ক্রাশ খেয়েছিলেন। সেটা যতদিন থাকবে আপনার ক্রাশও ততদিন থাকবে।
কিন্তু এমন দুর্ঘটনাজনিত কারনে যদি আপনার মা-বাবার কোন অঙ্গহানি হয়, তাহলে কি আপনার ভালোবাসা মা-বাবার ওপর থেকে কমে যাবে?? মনে হয় না ভালোবাসা কমবে বরঞ্চ বেড়ে যাবে। কারণ আপনার মা-বাবা আপনার ক্রাশ না, তাদেরকে আমরা মন থেকেই ভালোবাসি।

অনেকে হয়তো বলবেন, প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসার সাথে মা বাবার ভালোবাসা তুলনা করছি কেনো? তাহলে মা-বাবার ভালোবাসা বাদ দিলাম, এখন ধরুন আপনার প্রকৃত ভালোবাসার মানুষের সাথে এমন দুর্ঘটনা ঘটল তখন আপনি কি করবেন? আপনি তাকে ঠিকই ভালোবেসে যাবেন যদি সেটা মনের ভালোবাসা হয়ে থাকে। কারন বিয়ের পর কোনো স্ত্রীর বা স্বামীর সাথে এমন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা নিশ্চয় তাদের ছেড়ে যাবে না। কারণ তাদের ভালোবাসা হচ্ছে প্রকৃত ভালোবাসা, কোনো ক্রাশ নয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।

আমার চিন্তাধারার সাথে হয়তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু আমার কাছে ক্রাশ এবং ভালোবাসা বলতে যেটা মনে হয়েছে তাই লিখলাম। ক্রাশ থেকে কখনও প্রকৃত ভালোবাসা হতে পারে না। যেটা হয় সেটা খুবই সাময়িক বা ক্ষণস্থায়ী।

পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ আর আপনাদের মতামত কমেন্ট জানাবেন "ক্রাশ এবং ভালোবাসা" সম্পর্কে।
(যদি ভালো লাগে শেয়ার করতে পারেন। কপি/পেষ্ট করলে লেখকের নামটা অবশ্যই মেনশন করবেন)

মোঃ শাহারুখ হোসেন'র অণুছড়া ০১

সাকিব আল হাসান তুমি বাংলার গর্ব
বাঙালি জাতির চির আপন
তোমাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না
ওই ষড়যন্ত্রকারী পাপন
                - মোঃ শাহারুখ হোসেন 

Thursday, October 24, 2019

স্মৃতি

স্মৃতি
- মোঃ শাহারুখ হোসেন

স্মৃতিরা আজ দল বেঁধেছে
মনের গহীন কোণে
হৃদয়কে করছে অসুস্থ
পোড়াচ্ছে প্রতিক্ষণে

অনুভূতিরা হচ্ছে নিরব
শরীর হচ্ছে ক্লান্ত
অপ্রাপ্তির অসুখ আমাকে
করেছে যে শান্ত

স্মৃতির শহর জুড়ে আছে
বেদনা শতভাগ
স্মৃতির মিছিলে হারিয়ে
বেড়েছে মনে দাগ

মিটবে না এই হৃদয়ের দাগ
থাকবে আজীবন
আমৃত্যু তো করতে হবে
স্মৃতির আলাপন

Wednesday, October 16, 2019

তুহিনের লাশ

তুহিনের লাশ
- মোঃ শাহারুখ হোসেন

সুনামগঞ্জের ছেলে তুহিন
বয়স পাঁচ বছর
কদম গাছে ঝুলছে ওর লাশ
কী করে করি সবর

কী বুঝতো সে এই বয়সে
কার করেছে ক্ষতি?
কোন দোষে ওর হলো মৃত্যু
কে করলো এই গতি?

কার পাপের সাজা ওকে
পেতে হলো বলো
কেমন সমাজের মানুষ ওরা
একটু জানি চলো

চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও
ওরা হলো নিকৃষ্ট
জাহেলিয়াতের যুগ বোধহয়
ছিলো বেশি উৎকৃষ্ট

কী করে এই নৃশংস কাজ
করতে পারে মানুষ?
ওদের কী নেই মানবতা
না হারিয়েছে হুশ!

কী নির্মমভাবে তুহিনকে
করেছে হায় খুন!
ওরা হলো আরেক কাফের
নমরুদ ফেরাউন

পুরুষাঙ্গ আর দুইটা কান
দিয়েছে ওর কেটে
তারপর আবার দুইটা ছুরি
ঢুকিয়েছে পেটে

মনুষ্যত্বহীন মানুষদের
বলার কী আছে আর!
এই সমাজে জঘন্য কাজ
হচ্ছে যে বারংবার

তুহিনের লাশ সাক্ষী থাকবে
হবে একদিন বিচার
বন্ধ হবে এই সমাজের
অন্যায় ও অত্যাচার

তৈরি হবে বাংলাদেশে
নতুন এক ইতিহাস
দেশ ও জাতিকে নিয়ে কেউ
করবে না পরিহাস