Welcome To My Official Blog Site

নতুন নতুন সব আপডেট পেতে আমাদের সাইটের সাথেই থাকুন। আর কোন সমস্যা হলে আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করবেন www.facebook.com/ShaharukhOfficial

Search This Blog

Tuesday, May 19, 2020

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ষষ্ঠ পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
ষষ্ঠ পর্ব
মেয়েঃ হ্যাঁ সমস্যা কী? বারবার বলা স্বত্ত্বেও কল দিচ্ছো কেন? আমি আর তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখতে চাই না। প্লিজ আমাকে আর কখনো কোনোভাবে যোগাযোগ বা খোঁজার চেষ্টা করবে না। এটা বলে আমি কলটা কেটে দেই।
ছেলেঃ তাকে কিছু বলার সুযোগ তো দিবেন??
মেয়েঃ ওর মতো প্রতারক, মিথ্যুক কে কী বলার সুযোগ দিবো?
ছেলেঃ শুনতেন কী বলতে চাই।।।
মেয়েঃ হ্যাঁ শুনেছিলাম, আবারও কল করলে বললাম বলেন আপনি কী বলতে চান!
- স্মৃতি তুমি আপনি করে বলছো কেন?
- এতো ন্যাকামি না করে আপনার যা বলার বলেন। না হলে কল কেটে দিচ্ছি।
- আসলে ওর সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো, এখন নেই। ও আমাকে ভালোবাসে এজন্য তোমাকে ওসব বলেছে। আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
- আর কিছু???
- বিশ্বাস করো আমি ওকে না তোমাকেই মন থেকে ভালোবাসি আর তোমাকেই সারাজীবন বাসতে চাই।
- তাই?? এই কথা আর কয়জনকে বলেছেন? আপনি শান্তা কেও তো বিয়ে করবেন এ কথা বলে ওর সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করেছেন। একবারও ভাবলেন না, যে মেয়েটা আপনাকে এতোটা বিশ্বাস করে ভালোবেসে তার সর্বস্ব আপনাকে দিতে দ্বিধা করে নি; আজ তাকে বলছেন ভালোবাসেন না! আমাকে ভালোবাসেন? 
- আরে কী বলছো এসব! ওর সাথে আমার কিছুই হয় নি। আমাদের তো তেমন দেখাই হতো না।
- সোহাগ, যথেষ্ট হয়েছে! আর মিথ্যা বলো না। কতো মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে তুমি তাদের জীবন নষ্ট করেছ আল্লাহ ভালো জানেন। আমার সাথে এমন মিথ্যা প্রতারণা না করলেই পারতে। গুড বাই।।
এরপর আমি ওকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দেয় যাতে ও আমার সাথে যোগাযোগ না করতে পারে।
ছেলেঃ গত কয়েকদিনে এতো কিছু ঘটে গেলো আর আমি কিছুই জানলাম না?
মেয়েঃ এই কথাগুলো আপনার সাথে শেয়ার করার জন্য সেদিন রাতে ওতবার কল দিছিলাম। অনেকক্ষণ অপেক্ষাও করেছিলাম, কিন্তু আপনি অনলাইনে আসছিলেন না।
ছেলেঃ আসলে কী বলবো! আমি যদি জানতাম তাহলে তো ঠিকই আসতাম। অন্যদিন সারাক্ষণই অনলাইনে থাকি, অথচ সেদিন কেন যে আসছিলাম না!
মেয়েঃ আমার তখন কথাগুলো শেয়ার করার কেউ ছিলো না। কাকে বলবো, কী করবো! কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। শুধু কাঁদছিলাম আর ভাবছিলাম এমন একজন মিথ্যুক, প্রতারককে কেন ভালোবাসছিলাম! নিজের প্রতি ঘেন্না হচ্ছিলো, নিজেকে একটুও কন্ট্রোল করতে পারিনি। এজন্য সুইসাইড করতে চেয়েছিলাম। আর আম্মুর সবগুলো ঘুমের ওষুধ একসাথে খেয়েছিলাম।
ছেলেঃ আমি যদি সেদিন অনলাইনে আসতাম হয়তো এমন হতো না। কেন এমন পাগলামি করলেন? কার জন্য নিজের জীবন দিতে চাচ্ছিলেন? যে আপনার সাথে প্রতারণা করেছে অন্য একটা মেয়ের সতীত্ব নষ্ট করেছে, তার জন্য???
মেয়েঃ হ্যাঁ সেটা তো এখন বুঝতেছি, ওর মতো ছেলের জন্য আমি কেন আমার জীবন দিবো। কিন্তু তখন ওই সিচুয়েশনে কী করা উচিত আমার মাথায় আসে নি। তাই ওমন পাগলামি করেছিলাম। জীবনে এমন ভুল আর দ্বিতীয় বার করতে চাই না।
ছেলেঃ হুম সেটাই ভালো হবে। এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
মেয়েঃ হ্যাঁ, অন্য কথা বলুন। আমি ওই প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বলতে বা শুনতে চাই না। সবকিছু ভুলে যেতে চাই।
ছেলেঃ হুম। তা আপনার শরীর এখন কেমন? ঠিকমতো খাচ্ছেন তো? কোনো কিছুতে অনিয়ম করবেন না।
মেয়েঃ শরীর এখন মোটামুটি সুস্থ, আর ঠিকমতো খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি। আম্মু এখন অনেক যত্ন নিচ্ছেন।
ছেলেঃ আচ্ছা এখন বাই।। পরে কথা হবে। নিজের যত্ন নিবেন।
মেয়েঃ ওকে, আপনিও।

এমনভাবে কয়েকমাস অতিবাহিত হয়ে গেলো। এরা দু'জন প্রতিনিয়ত কথা বলতে থাকে। নিজেদের মধ্যে ভালো একটা বোঝাবুঝির সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা দু'জন দুজনের সাথে সব কথা-ই শেয়ার করে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে মেয়েটার ভিতর চিন্তা ততই বাড়ছে....(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

No comments:

Post a Comment